তারেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতীয় দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য

গেজেট প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভরত সফরকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে নানান সংবাদ। খোদ ভারতেরই প্রভাবশালী ২টি পত্রিকায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রকাশ করা হয়েছে ভিন্ন তথ্য। এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য ভারতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পক্ষান্তরে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোন তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ থাকলেও বাংলাদেশ এখনও তার সফর নিশ্চিত করেনি।

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সম্প্রতি দিল্লিতে তার বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ঘিরে ঢাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গতকাল শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৪৫ মিনিটব্যাপী এক বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তিনি সরাসরি এই কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অগ্রগতির ওপরই বাংলাদেশ-ভারতের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ভাগ’ নির্ভর করছে। এই শর্ত পূরণ না হলে সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি অংশ না-ও নিতে পারেন। তবে ওই বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের জানান, দুদেশের আলোচনায় সমাধান করা সম্ভব নয়, এমন কোনো সমস্যা নেই।

অন্যদিকে, ভারতের আরেক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ঢাকা ও দিল্লির একাধিক সূত্রের বরাতে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর এবং দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদিনের এই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও বাণিজ্য, সংযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তুতি ইতিপূর্বে দুই রাজধানীতেই শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন অবধি তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এদিকে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিশেষ দেশকেন্দ্রিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়ে আমীর খসরু বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় বিএনপি।’

নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা জানানোর প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ ও সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি এসেছে।

এর আগে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর পাশাপাশি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারতের তরফ থেকে তাঁকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণগুলো ইতিমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন